রাজশাহী অঞ্চলে অবশেষে এলো প্রাণ জুড়ানো বৃষ্টিরাবিতে ভাস্কর্য উল্টানোর ঘটনায় লিখিত অভিযোগরাজশাহীর পৃথক ঘটনায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনতাইবাঘায় বীষমুক্ত বিদেশে রপ্তানীযোগ্য আম উৎপাদন বিষয়ক প্রশিক্ষণলাক্স সুন্দরী থেকে সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টারক্যামেরা রেখে আহত শিশুদের বাঁচালেন সাংবাদিকধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু-মুসলিম দুই স্ত্রী নিয়ে বিপাকে স্বামী, অতঃপর জেল হাজতেতিন মাসের শিশুকে আদালতে তলব!মমতার বিরুদ্ধে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগশিব মন্দিরে বাজবে মাইক, সমঝোতায় হিন্দু-মুসলিমফেসবুকে দুই বাকপ্রতিবন্ধীর প্রেম, লন্ডন থেকে বাংলাদেশেবাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুৎ জিআই পাইপে গ্যাসএকটি রসগোল্লার কারণে ভেঙে গেল বিয়ে!রাতে গৃহবধূর ঘরে পুলিশ, তালা লাগিয়ে গণপিটুনিপাবনায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ৩
০১ মে, ২০১৭
        

ফেসবুকে মেয়ে পটানোর ভয়ঙ্কর ফাঁদ ।। শেষ পরিণতি সর্বনাশ

প্রকাশঃ ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে ভয়ঙ্কর ফাঁদ। ছদ্মবেশী প্রতারকের সেই ফাঁদে আটকে ঘটছে নানা সর্বনাশ। মার্জিত ছবি ও আকর্ষণীয় পরিচিতির আড়ালে ওরা টার্গেট করছে নারীদের। কেড়ে নিচ্ছে সম্ভ্রম। শুরুটা একেবারে সাদামাটা। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো। সরল বিশ্বাসে নারীরা তা এক্সসেপ্ট করছে। তারপর বন্ধুত্ব। এভাবে বেড়ে চলছে ফেসবুক ফ্রেন্ড। কিন্তু কখনো কখনো তা এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। লাইক, শেয়ার, কমেন্ট, পোস্ট ও চ্যাটে আকর্ষণ করছে নারীদের। প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে কিশোরী বা তরুণী থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী নারীদেরও। সাক্ষাতের নামে গড়ে তুলছে ঘনিষ্ঠতা বা সম্পর্ক। ফাঁদ পাতছে প্রেমের। সুযোগ বুঝে জিম্মি করছে সহজ-সরল নারীকে। একদিন উন্মোচিত হচ্ছে ভদ্রতার মুখোশ। ততদিনে অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া সকল পথই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরণ করতে হচ্ছে ধর্ষণের নির্মম পরিণতি। পৈশাচিক যৌন নির্যাতন। কখনো প্রথম সাক্ষাতেই ধর্ষিত হচ্ছে অসহায় নারী। এখন প্রায় প্রতি মাসেই দেশে এভাবে ধর্ষণ ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ।

পনের দিন আগের ঘটনা। প্রিন্স চৌধুরী বাপ্পী। ফেসবুকের রঙিন পরিচিতিতে একজন ব্যবসায়ী। জানুয়ারি ২০১৭। টার্গেট করে দশম শ্রেণির ১৪ বছরের এক মেধাবী ছাত্রীকে। ফেসবুকে আলাপের পর ওই মাসের শেষদিকে কিশোরীর মোবাইলফোন নম্বর সংগ্রহ করে। ফোন করে দেখা করতে চায়। ওই ছাত্রীর সম্মতি পায়নি। তবে কথার ভুলে মোহাম্মদপুরের স্কুলটির নাম বলে দেয়। সেটাই কাল হয় তার জন্য। পরদিন ২৯ জানুয়ারি সকাল। স্কুলের সামনে আকস্মিক যুবকটিকে দেখে হতভম্ব ওই ছাত্রী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। তারপর মিরপুরে একটি ছয়তলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। জোর করে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এরপর ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় সে। ওই দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ওই মেধাবী ছাত্রী। তার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবার। তাই মামলাও করতে চায় না মেয়েটির পরিবার।

ওই ধর্ষিত মেয়ের পিতা বলেন, আগে ফেসবুক পরিচয়ে বা অপহরণ করে নারী ধর্ষণের খবর সংবাদপত্রে পড়েছি। এখন আমার পরিবারেই এমন ঘটনা ঘটতে দেখে আমরা হতভম্ব। কিন্তু মামলা করেও তো কোনো লাভ নেই। বরং দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তিতে তার ভবিষ্যতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে ঘটে আরো ভয়াবহ ঘটনা। ফেসবুকের পরিচয়ে ধারাবাহিক ধর্ষণ। একে একে ১৩ নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠন। ধর্ষণের পর অপর একজনকে খুন করে ধরা পড়লো বরিশালের সায়েম আলম মিমু। ফেসবুকে পরিচয়ের ফাঁদে ফেলে এইচএসসি পাস করা নাইমা ইব্রাহিম ঈশীকে। বরিশাল শহরের হোটেল ফেয়ার স্টারে গতবছর ৯ই আগস্ট রাতে পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান ঈশীকে ধর্ষণ করে। তারপর খুন করে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালায়। হাতিয়ে নেয় স্বর্ণালংকার ও হাতের মোবাইলফোন। এর আগে ধারাবাহিকভাবে ১৩ নারীকে ধর্ষণ ও ঈশীকে খুনের পর ৩০ আগস্ট রাজধানীর মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার হয় সে। বরিশালের ওয়ারী থানাধীন ৬০/১ যোগীনগর রোড এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়ার পুত্র এই সায়েম আলম মিমু। গ্রেপ্তারের পর সে পুলিশকে জানায়, ফেসবুকে পরিচয়ের পর নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। একইভাবে আরো ১৩ জনের সঙ্গে ফেসবুক পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর মোবাইল সেট, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। নারীদের দেহ ও সম্পদ লুটের জন্যই সে অভিনব কৌশলে ফেসবুকের অপব্যবহার করে যাচ্ছিল। নারীর বিশ্বাস ও গভীর ভালোবাসা আদায় করে একে একে তাদের চরম ক্ষতি করে যাচ্ছিলো।

এর আগে ফেসবুকে পরিচয়ের দু'মাস ধরে প্রতারণা করে গেছে তামিম নামে এক প্রতারক। সে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। সম্পর্ক গড়ে তোলে ২০১৬ সালে এসএসসি পাস করা কেরানীগঞ্জের এক কিশোরীর সঙ্গে। তারপর গতবছর ২২শে মে ওই ছাত্রীকে মোবাইলফোনে বলে আজ অবশ্যই দেখা করতে হবে। ওই ছাত্রীও সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ থেকে বাসে চড়ে ঢাবি'র টিএসসি মোড়ে আসে। সাক্ষাৎ হয়। তাকে ভুলিয়ে বাংলামোটরের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। তারপর রাতভর ধর্ষণ। পরদিন সকাল ১১টার দিকে বের হয়ে আবার টিএসসি মোড়ে যায়। ওই ছাত্রীকে সেখানে ফেলে রেখে গাঢাকা দেয় প্রতারক ধর্ষক। এরপর ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে।

এর আগে রাজধানীর মিরপুরে ঘটে আরো এক ঘটনা। ২০১৫ সালের ২০শে জুন ফেসবুকের পরিচয়ের পর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় ঘটে আরো ভয়াবহ অপরাধ। ফেসবুকের পরিচয় থেকে সাকিব এক কলেজছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। দেখা করার কথা বলে তাকে মিরপুরের একটি বাসায় নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। সঙ্গে থাকা তার দু'বন্ধু ওই অপকর্মের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। কেড়ে নেয় ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা দু'টি মোবাইলফোন, ল্যাপটপ ও দু'হাজার টাকা। ভিডিও চিত্র ধারণের পর তাকে জিম্মি করে দাবি করে ১০ হাজার টাকা। পরে ওই ছাত্রীর অভিযোগের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

চট্টগ্রামে ভুয়া ফেসবুক আইডিতে নিজের তরুণ বয়সের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ফাঁদ পাতে নাছির উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। সেখানে নিজের পরিচিতি উল্লেখ করে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও তরুণ আইনজীবী হিসেবে। তখন সে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও কর্মরত ছিল। ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ফেসবুকের পরিচয় থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। তারপর সাক্ষাতের কথা বলে গতবছর ২২শে অক্টোবর মুখোমুখি হয়। দেখা হতেই ভুল ভাঙে ওই কিশোরীর। এরপরই সে কেটে পড়ার চেষ্টা করতেই তাকে অপহরণ করে গাড়িতে তুলে নেয় নাছির। এরপর তাকে একটি বাসায় তুলে আটকে রাখে। এক-দু'দিন নয়। সেখানে তাকে টানা দু'মাস আটকে রেখে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। ব্যর্থ হয় কিশোরী পালানোর সব কৌশল। অবশেষে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার অভিনয় করলে তাকে ওই ধর্ষক চিকিৎসকের কাছে নেয়। সেখান থেকে পালায় কিশোরী। এরপরই জানাজানি হয় এমন ফাঁদের কথা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন তানিয়া হক বলেন, কিছুদিন আগেও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ফেসবুকের পরিচয়ের পর নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে দেখেছি। এখন আমাদের দেশে তা প্রায়ই ঘটছে। তিনি বলেন, এখনই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স বা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না করা গেলে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে এটি। গ্লোবালাইজেশনের এ যুগে টেকনোলজির ভালো দিকের চেয়ে খারাপ দিকটাই বেশি ব্যবহার হচ্ছে। সন্তানদের ফেসবুক ব্যবহারে মা-বাবারও সচেতন হওয়া উচিত। আর ছেলেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে নারীদের সম্মান দিতে শেখে।-মানবজমিন