রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নেপালি শিক্ষার্থী আটকসিলেটের আতিয়া মহলে আছে নব্য জেএমবির অন্যতম নেতা রাজশাহীর জঙ্গি মুসা!রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসকাঙালিভোজে আ. লীগের সংঘর্ষ, ছাত্রলীগকর্মী নিহতরাজশাহীর চারঘাটে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারবিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতি হামলা ।। রাজশাহীতে নিরাপত্তা জোরদার ৮৫টা বিয়ে করেছি, একঘেয়ে লাগে না : মনামী ঘোষরাজশাহী কলেজে মসজিদের ইমামের সঙ্গে ছাত্রলীগের হাতাহাতিভয়ঙ্কর গণহত্যা, ২৫ মার্চের অপারেশন সার্চ লাইট ।। রাজশাহীর ইতিহাসে আজও নিখোঁজ ১১১৩ জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের হুঁশিয়ারিরাজশাহীর মোহনপুরে কয়েকশ মানুষের সেচ্ছাশ্রম, আড়াই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কাররাজশাহীতে সন্তানদের নিষ্ঠুরতা ।। এক মুঠো ভাতের জন্য রোগী সেজে হাসপাতালে বৃদ্ধ!নাটোরে চার দোকান ভস্মীভূত৩ দিনের ছুটি, ঘরমুখো মানুষ ।। ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কে চলছে গাড়ি থেমে থেমেরাজশাহীর ৫০ মুক্তিযোদ্ধা পেলেন আর্থিক সহায়তা
২৮ মার্চ, ২০১৭
        

কিডনি চুরি : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশঃ ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

নাটোর : নাটোরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে রোগীর শরীর থেকে কিডনী চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত চিকিসৎসক, হাসপাতালে পরিচালক সহ ৪জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় আরো ৭-৮জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নাটোর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত-২ মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী আসমা বেগমের স্বামী ফজলু বিশ্বাস। পরে বিচারক শামসুল আল আমিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ মামলার বাদী এবং ভিকটিমকে আগামী সোমবার স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী সার্জন ডা. এমএ হান্নান, নাটোর জনসেবা হাসপাতালের স্বত্তাধিকারী ডা. আমিরুল ইসলাম, পরিচালক রফিকুল ইসলাম, হাসপাতালের অজ্ঞানকারী চিকিৎসক ডা.এসবি হালদার।

এদিকে, পুলিশ হেফাজতে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডে হাজিরের জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবার আবেদন করেছেন দাবী করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বিএমএ নেতারা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত দুই বছর আগে সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রাম গ্রামের ফজলু বিশ্বাসের স্ত্রী আসমা বেগম পেটে ব্যাথা অনুভব করলে ২০১৫ সালের ১০মে শহরের মাদরাসা মোড়ের জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যায় তার স্বজনরা। সেখানে পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য জনসেবা হাসপাতালের সনোলজিষ্ট ডা. আশিকুর রহমান আসমা বেগমের আলট্রাসনোগ্রাফি করে দুটি কিডনি স্বাভাবিক ও সুস্থ রয়েছে মর্মে রিপোর্ট দেন। পরবর্তীতে আবারো একই বছরের ৩০ মে রাজশাহীর লক্ষীপুরে গ্রীণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে কিডনি স্বাভাবিক এবং সুস্থর রিপোর্ট দেন। কিছুদিন পরে আসমা বেগম অসুস্থ বোধ করলে জনসেবা হাসপাতালের ডা. এমএ হান্নান তাহাকে ভর্তি করার পরমর্শ দেন। পরে ২০১৫ সালের ১২জুন রাত ৮টার দিকে আসমা বেগমের পিত্ত থলিতে পাথর অপারেশন করেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগী সহকারী সার্জন ডা. এমএ হান্নান।

মামলায় আরো বলা হয়, আসমা বেগমের অপারেশনের পর কিছুতেই শরীর তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। বরং দিন দিন আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গত ২০১৬সালের ৫ ফেব্রুয়ারী আবারো জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সনোলজিষ্ট ডা. এবি সিদ্দিক আলট্রাসনোগ্রাফি করে রিপোর্ট দেয় ডান কিডনি না থাকার বিষয়টি। পরে আবারো বিষয়টি নিশ্চত হওয়ার জন্য শহরের আইডিয়াল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, কেয়ার হাসপাতাল এবং সর্বশেষ বগুড়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরীক্ষায় একই ফলাফল আসে। কিন্তু বিষয়টি গত ৩ ফেব্রুয়ারী অভিযুক্ত ডাক্তার সহ অন্যদের জানানো হলে তারা উল্টো হুমকি বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করার জন্য চাপ দিতে থাকে।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বকুল হোসেন জানান, আদালত মামলাটি পর্যবেক্ষনে রেখেছে। যার কারনে আগামী সোমবার ভিকটিম, মামলার বাদীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বিচারক নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার বাদী ফজলু বিশ্বাস জানান, আমার স্ত্রী আসমা বেগমকে হত্যা করার জন্য এবং উচ্চ মূল্যে কিডনি বিক্রির জন্য চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডান কিডনি সরিয়েছে। অভিযুক্তদের প্রয়োজনীয় শাস্তির জন্য আমি আদালতের কাছে দারস্ত হয়েছি।

মামলার বিষয়ে জনসেবা হাসপাতালের পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালত যা করবে সেটাই আমরা মেনে নিবো।

এদিকে, পুলিশ হেফাজতে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডে হাজিরের জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবার আবেদন করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং বিএমএ নেতারা।

এবিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জেলা শাখার সভাপতি ডা. এসএম জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার দিন ৩ ফেব্রুয়ারী ভিকটিমের স্বামী থানায় উচ্চতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য লিখিত দিয়েছি। কিন্তু হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের পক্ষ থেকে ভিকটিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আসেনি। এই অবস্থায় রোগীকে  পুলিশি হেফাজতে মেডিকেল বোর্ডে হাজির হওয়ার জন্য জেলা পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এ্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধনের কোন আবেদন তার কাছে আসেনি।