রাজশাহী অঞ্চলে অবশেষে এলো প্রাণ জুড়ানো বৃষ্টিরাবিতে ভাস্কর্য উল্টানোর ঘটনায় লিখিত অভিযোগরাজশাহীর পৃথক ঘটনায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনতাইবাঘায় বীষমুক্ত বিদেশে রপ্তানীযোগ্য আম উৎপাদন বিষয়ক প্রশিক্ষণলাক্স সুন্দরী থেকে সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টারক্যামেরা রেখে আহত শিশুদের বাঁচালেন সাংবাদিকধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু-মুসলিম দুই স্ত্রী নিয়ে বিপাকে স্বামী, অতঃপর জেল হাজতেতিন মাসের শিশুকে আদালতে তলব!মমতার বিরুদ্ধে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগশিব মন্দিরে বাজবে মাইক, সমঝোতায় হিন্দু-মুসলিমফেসবুকে দুই বাকপ্রতিবন্ধীর প্রেম, লন্ডন থেকে বাংলাদেশেবাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুৎ জিআই পাইপে গ্যাসএকটি রসগোল্লার কারণে ভেঙে গেল বিয়ে!রাতে গৃহবধূর ঘরে পুলিশ, তালা লাগিয়ে গণপিটুনিপাবনায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ৩
০১ মে, ২০১৭
        

বাঘার মাঠেমাঠে হলুদের চাতাল

প্রকাশঃ ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

 

রাজশাহীর বাঘায় হলুদ চাষ করে কৃষকদের ভাগ্য বদলে গেছে। বিশেষ করে উপজেলার সমতল ও চরাঞ্চল এলাকায় এ বছর ব্যাপক পরিমান হলুদের চাষাবাদ হয়েছে। সম্প্রতি হলুদকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চাতাল। এর মধ্যে আড়ানী এলাকায় রয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে, পতিত ও বাড়ির পার্শ্ববর্তী আবাদি জমিতে অন্যান্য ফসলের ন্যায় এবার অনেক কৃষক হলুদ চাষাবাদ করছেন। কৃষকদের মতে, বিগত বছরগুলোয় হলুদ আবাদ করে ব্যাপক ভাবে লাভবান হওয়ায় পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে এবার কৃষকরা বেশি জমিতে হলুদ আবাদ করেছেন। সম্প্রতি এসব হলুদ উত্তোলন শুরু হয়েছে। এই হলুদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে হলুদ শেদ্ধ ও শোকানোর জন্য বড়-বড় চাতাল। এর মধ্যে আড়ানী এলাকায় গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক চাতাল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অল্প সময় ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ এবং কীটনাশকের তেমন একটা প্রয়োজন হয় না হলুদ আবাদে। এ কারণে আনেকেই আমবাগান সহ প্রতিত জমিতে হলুদ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ছেন। হলুদ চাষিরা জানান, এক শতক জমিতে ৬ থেকে ৭শ টাকা খরচ করে হলুদ চাষ করে ৩ থেকে ৪ মণ হলুদ পাওয়া যায়। ওই হলুদ ভাল দাম পাওয়া গেলে বিক্রি হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। আর শ্রমিকরা সকাল ৮ টা হতে বেলা ১ টা পর্যন্ত হলুদ তুলে মজুরি পান ২০০ টাকা। এতে তারাও আর্থিক ভাবে লাভবান হন।

উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিগত সময়ে চরের মাটিতে কখনো-ই হলুদের চাষবাদ করেননি। কিন্তু গত বছর হলুদ আবাদিরা বাম্পার দাম পাওয়ায় তিনি এবার প্রায় দুই বিঘা জমিতে হলুদ আবাদ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ওই হলুদ তুলে গরম পানিতে সেদ্ধ করার পর রোদে শুকাচ্ছেন বলে জানান।

এদিকে নিজ উদ্যোগে উপজেলার বাউসা এলাকার একটি আম বাগানে হলুদ চাষ করেছেন উদ্যমী যুবক আব্দুল ওহাব। তিনি একাধারে একজন কৃষক-ও শিক্ষক। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এ বছর প্রায় তিন বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন। এর মধ্যে এক বিঘা রয়েছে আম বাগান। তার মতে, শ্রম ও সাধনা দিয়ে ফসল আবাদ করলে যেকোন আবাদে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব। আব্দুল ওহাব জানান, হলুদ চাষের সময় তিনি ১১ হাজার টাকার বীজ ক্রয় করে হলুদ রোপণ করেন। গাছ গজানোর সময় দুই একটি সেচ ও পরিমান মত রাসায়নিক সার ছাড়া তেমন কিছুই দেননি। বর্তমানে তার যে পরিমান হলুদ উৎপাদন হয়েছে তাতে খরচের তুলনায় দশ গুন বেশি টাকা আয় হবে।

অপরদিকে আড়ানী এলাকার বাসিন্দা ও পৌর কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক রাজ, নওটিকার আমজাদ হোসেন, তেথুলিয়ার সাইফুল ইসলাম, বলিহার গ্রামের আব্দুল জলিল, আমোদ পুর গ্রামের আলী আকবর ও শাজাহান আলী সহ আরো অনেকে জানান, সরকার হলুদের ন্যায্য বাজার উপহার দিতে পারলে এ দেশে কখনোই হলুদ সংকোট হবে না। বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলে যেপরিমান আম বাগান রয়েছে তার মধ্যে সবাই যদি কমবেশী হলুদ চাষাবাদ করে তাহলে দেশের চাহিদা পুরনের পর বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব।

আড়ানী এলাকার হলুদ ব্যবসায়ী সিদ্দিক শেখ, শাহাদত হোসেন, বাবুল মিঞা, উজির, ইদ্রিশ আলী ও সাত্তার জানান, বর্তমানে আড়ানী পৌর এলাকার মধ্যে কাঁচা হলুদ কেনা ও সেদ্ধ করে শুকানোর পর বিক্রির নিমিত্তে প্রায় ৫০টির অধিক চাতাল তৈরী হয়েছে। এ সমস্ত চাতালে ভাল হলুদ (কাঁচা) ৬ শ’ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। অপরদিকে সুখানোর পর ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, হলুদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেলা অফিস থেকে লক্ষ্য মাত্রার কোন তালিকা দেয়নি। তাই কত বিঘা জমিতে হলুদ উৎপাদন হচ্ছে তা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না।

তবে ধারনা করা হচ্ছে, এ উপজেলায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হচ্ছে। তার মতে, এ উপজেলার মাটি হলুদ উৎপাদনের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। তিনি হলুদ চাষের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।