ফেসবুকে পরিচয়: একটি লাশ ও রাজ শাহী কলোনির তরুণী''এক টিভি চ্যানেলের কর্তা আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল''- ভারালক্ষ্মীমেঝ ভাইয়ের হাতে ছোট ৩ ভাইবোন খুন, বড় ভাইকে কুপিয়ে আহতটিভিতে আজকের খেলা : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ইতিহাসের পাতায় আজকের এই দিনে : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭বাইসাইকেলে বরযাত্রা!রজশাহীতে তিন নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার১৬ কোটি মানুষের দেশে একমাত্র নারী রিকশাচালক১৩ এসপি'কে বদলিএবার ট্রেনে সেলফি তুললেই জেল!অ্যাম্বুলেন্স নেই, সাইকেলে মেয়ের লাশ নিয়ে গেলেন বাবারাজশাহীতে পুলিশের সামনেই মাদক সেবন!সমকামী ২ যুবতীর গল্পরাজশাহীতে চুরির অপরাধে শিশুর মাথার চুল কেটে নির্যাতন!নাটোরে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
        

রাজশাহীতে ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ইটভাটা

প্রকাশঃ ২১ জানুয়ারী, ২০১৭

রিমন রহমানঃ রাজশাহী জেলা জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। তবে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। বরং অবৈধ এসব ইটভাটা থেকে আদায় করা হচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। রাজশাহী ইট প্রস্তুতকারী সমিতির দেওয়া তথ্য মতে, রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় ১৮৫টির মতো ইটভাটা আছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে হাতেগোনা কয়েকটি ইটভাটার। বাকিগুলো চলছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে। তবে এসব ইটভাটা মালিকরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছেন নিয়ম মতোই।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, আইন না মেনে গড়ে ওঠা ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে ইটভাটা মালিকরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব ইট তৈরির জন্য সরকার সহায়তায় এগিয়ে না এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমিতে ইটভাটা করা যাবে না। কিন্তু এ আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই রাজশাহী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে বহু ইটভাটা। অধিকাংশ ইটভাটায় আবার জনবসতির খুব কাছাকাছি। ফলে এসব ইটভাটার কারণে মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন হচ্ছে, তেমনি পরিবেশের ওপরও পড়ছে বিরুপ প্রভাব। তাছাড়া একের পর এক ইটভাটা নির্মাণের কারণে কৃষি জমির পরিমাণও কমছে দিন দিন।

ভাটা মালিকদের বক্তব্য, তারা বৈধভাবেই ব্যবসা করতে চান। কিন্তু আইনী জটিলতার কারণে ছাড়পত্র ও লাইসেন্স পাচ্ছেন না। তবে বৈধতা না থাকলেও প্রতি ১০ লাখ ইটের বিপরীতে প্রায় চার লাখ টাকা রাজস্বও দিতে হচ্ছে সরকারকে।

জেলার পবা উপজেলার কুখন্ডি জয়পুর এলাকার ইটভাটা মালিক আব্দুর রাজ্জাক ও সাকির উদ্দিন সেন্টু বলেন, আইন অনুযায়ী কৃষি জমি, আবাসিক ও বন বা বাগান এলাকায় ৩-৪ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা করা যাবে না। একইসাথে ইট পরিবহনের জন্য সরকারি পাকা সড়কও ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এই আইন মানা আমাদের জন্য কঠিন। তাই আমরা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না পেলেও ভাটা স্থাপন করেছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় সান্যাল বলেন, সরকার অনুমোদিত যে চারটি পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো বা প্রস্তুতের কথা বলা হয়েছে, তা খুবই ব্যয় বহুল। এ কারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহী হচ্ছেন না। তবে একটি জেলার সব মালিক বা উদ্যোক্তারা এক হয়ে একটি বা দুটি ভাটা তৈরি করলেও এর সমাধান হতে পারে। জেলায় এতবেশি ভাটারও তো প্রয়োজন হয় না। এ জন্য মালিকদের কড়া নজরদারির মধ্যে আনতে হবে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি সদরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যমান আইনের জটিলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। এই আইনের সংশোধন করা উচিত। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট তৈরির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তবে রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ বলছেন, নানা কারণে প্রভাবশালীরা অনুমোদন না নিয়েই ইটভাট তৈরি করছেন। মাঝে-মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানাও করা হচ্ছে। আইন না মানলে কোনো ভাটাই চলতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

অবৈধ ইটভাটা থেকে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কার্যালয়ের ডেপুটি কমিশনার রুহুল আমিন বলেন, কোন ভাটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ এটি অমাদের আমাদের দেখার বিষয় নয়। যার যার দফতর কাজটাও তার। আমরা নিয়ম অনুয়ায়ীই ভ্যাট আদায় করছি।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী, লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করলে অনধিক এক বছরের কারাদ- অথবা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।